Register or Login
জাতীয় পরিষদ সভায় কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দুঃশাসন হঠাতে, ব্যবস্থা বদল ঘটাতে বাম বিকল্প শক্তি গড়ে তুলুন
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র জাতীয় পরিষদ সভা আজ ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনে সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রিপোর্ট উত্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম। লিখিত রিপোর্টে বলা হয়, দেশে চলছে মূলত এক দলীয় শাসন। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নৈরাজ্য চলছে। ব্যাংক ঋণের উপর সরকারের নির্ভরতা বেড়েছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ হয়নি। গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা না থাকায় উন্নয়নে অপচয়-দুর্নীতি বাড়ছে। দেশের ধন বৈষম্য ও শ্রেণি বৈষম্য ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। গুম-খুন-ধর্ষণ-সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা মহামারির রূপ নিয়েছে। মাদক ব্যবসা-ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজ ও সামাজিক ক্ষমতা দুর্বৃত্তদের দখলে। ছাত্রলীগের ক্যাম্পাস দখল ও বর্বরতা অব্যাহত রয়েছে। আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে। দেশ শ্রমিকদের জন্য বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নেই। মালিকরা কারখানা আইন মানে না। কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানা, গাজীপুর ফ্যান কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য শ্রমিক। শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কর্ম পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিদেশে অবস্থানরত শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা নেই। বিদেশে নারী শ্রমিকদের ওপর দৈহিক ও যৌন নির্যাতন হচ্ছে। তারা লাশ হয়ে দেশে ফিরছে। তাদের জন্য রাষ্ট্রের কোনো মমতা নেই। সভাপতির বক্তব্যে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কঠিন দিনের সম্মুখীন। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের পাশাপাশি ভারতের বৃহৎ পুঁজির আগ্রাসী আধিপত্য আমাদের উপর চেপে বসছে। ভারতের বৃহৎ পুঁজি সাম্প্রদায়িকতাকে বাহন করেছে। মোদির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক আম্বানী, আদানিরা। অপরদিকে মোদি তাদেরকে ভারতের জনগণকে নিরঙ্কুশ শোষণ করার পথ করে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) ও এনআরসি ভারতীয় সমাজ ও রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন গভীর করবে। ভারত ক্রমান্বয়ে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ভারতে গণপ্রতিরোধ চলছে। ভারতের নাগরিকত্ব আইন দক্ষিণ এশিয়ায়ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি ও মেরুকরণ গভীর করবে। তাই এটা শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের ঐক্যবদ্ধ লড়াই জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি দেশের চলমান আওয়ামী দুঃশাসন হঠানোর সাথে সাথে বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে বাম বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির এক বছর পূর্তিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট ঘোষিত ‘কালো দিবসে’ দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে পার্টির কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। জাতীয় পরিষদে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পরিষদের সদস্য শিবনাথ চক্রবর্তী, শ ম কামাল হোসেন, অশোক সাহা, মোতালেব মোল্লা, শহীদউদ্দিন বাবুল, দিলীপ পাইক, আবুল ইসলাম শিকদার, নিসার আহমেদ, সাজিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আনোয়ার হোসেন রেজা, মোজাহারুল হক, রেখা চৌধুরী, ম হেলালউদ্দিন, মেহেদী হাসান নোবেল, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, মাসুম ইবনে শফিক, হাফিজ আদনান রিয়াদ, আবু হোসেন, ওয়াহেদুজ্জামান মতি, অরুণ কুমার শীল, আব্দুল হালিম প্রমুখ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2020. Beta