Register or Login
রাজনৈতিক প্রস্তাব (১১, ১২ ও ১৩ অক্টোবর ২০১২ ঢাকায় অনুষ্ঠিত দশম কংগ্রেসে গৃহীত)
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ভূমিকা ২০০৮ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত নবম পার্টি কংগ্রেসের সময় দেশের ক্ষমতায় ছিল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন-ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল এবং একটানা ২ বছর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। সেনা সমর্থিত ও অনির্বাচিত ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ এই সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো হরণ করেছিল। এই সরকারের শাসনকালের শেষের দিকে জরুরি অবস্থা কিছুটা শিথিল হওয়া মাত্রই আমাদের পার্টি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার পরে গত ৪ বছরে দেশে অনেক ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে গত ৪ বছরে দক্ষিণ এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বে নানা ধরনের এবং অনেক সময় বিপরীতমুখী প্রবণতার ঘটনাও ঘটেছে। সে সব ঘটনার অভিঘাত আমাদের দেশের ঘটনাবলীর ওপরেও প্রভাব ফেলেছে। নবম পার্টি কংগ্রেস শেষ হওয়ার পর পরই ২০০৮-এর ডিসেম্বরে দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ সেনা সমর্থিত সরকার বিদায় নিয়েছে এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ‘মহাজোট সরকার’ ক্ষমতায় এসেছে। সেই সরকারের মেয়াদকালের তিন-চতুর্থাংশ ইতোমধ্যে পারও হয়েছে। স্বাভাবিক সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ছিন্ন না হলে, বছর খানেক পরেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী মেয়াদে কারা দেশ শাসন করবে- সে প্রশ্নটি ইতোমধ্যে প্রধান হয়ে উঠেছে। তাই পরবর্তী সরকার গঠনের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি সব মহল নানাবিধ তৎপরতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে। জনগণের চিন্তা-ভাবনায়ও এই বিষয়টি এখন সামনে এসে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে, কী কর্মকৌশল নিয়ে অগ্রসর হলে কমিউনিস্ট পার্টি দেশের মানুষ তথা শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে বাস্তবসম্মত ও সবচেয়ে উপযোগীভাবে অগ্রসর করতে পারবে, তা নির্ধারণ করা এখন একটি বিশেষ কর্তব্য হিসেবে আমাদের সামনে উপস্থিত। দেশের ও দেশের বাইরের বিভিন্ন ঘটনাবলীর বাস্তবসম্মত বিবেচনার ভিত্তিতে সেই কর্তব্য নির্ধারণ করতে হবে। সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সাধনের মূল রণনৈতিক কর্তব্য এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি, সেই লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে পার্টিকে তার আশু কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি ২০০৮ সালের আগস্টে পার্টির নবম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবার ঠিক আগে আগেই প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে ও পরে গোটা পুঁজিবাদী বিশ্বে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও মন্দা দেখা দিয়েছিল। এটি ছিল পুঁজিবাদের এ যাবৎকালের ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর সংকট। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানিসহ সকল সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রসমূহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গঠিত রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা ঢেলে দেউলিয়া হয়ে পড়া বহুজাতিক ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করেছিল। অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বন্ধের এবং বিরাষ্ট্রীয়করণের প্রবক্তা পুঁজিবাদী পন্ডিতরা সংকটগ্রস্ত পুঁজিবাদকে রক্ষার জন্য মুনাফার প্রাইভেটাইজেশন এবং লোকসানের রাষ্ট্রীয়করণ নীতি গ্রহণ করতে সামান্যতম দ্বিধা করে নাই। বস্তুত সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র যে জনগণের নয়, বরং একচেটিয়া ফিন্যান্স পুঁজির স্বার্থেরই রক্ষক- একথা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। বুর্জোয়া অর্থনৈতিক পন্ডিতদের নতুন সব তত্ত্ব পুঁজিবাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংকট নিরসনে যে ব্যর্থ হয়েছে, তা-ও আজ সুস্পষ্ট। ২০০৭-০৮ সালে সূচিত এবারের সংকট শুধুমাত্র পুঁজিবাদের নিয়মিত বাণিজ্য চক্রের সংকট ছিল না। পুঁজিবাদ তার বিকাশের গতিপথে আজ যে জায়গায় উপনীত হয়েছে, সেখানে তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যই হলো ফিন্যান্স পুঁজির অস্বাভাবিক দাপট, যা দুনিয়াময় অবাধে ঘুরে বেড়ায়, যা প্রকৃত উৎপাদনশীল অর্থনীতিকে সহায়তা না করে দ্রুত ও সর্বোচ্চ মুনাফার সন্ধানে ফটকা কারবারে অধিক উৎসাহী হয়। এবারের এই সংকট ও মন্দা পুঁজিবাদের এই বৈশিষ্ট্যের ও ফিন্যান্স পুঁজিতাড়িত ধনতন্ত্রবাদের নয়া উদারবাদী পথের ব্যর্থতা ও অবধারিত বিষময় ফলাফলের প্রকাশমাত্র। এই সংকটের ফলে নয়া উদারবাদী পথের বিপদ সম্পর্কে জনগণের উপলব্ধি প্রসারিত হয়েছে এবং তার অভিঘাতে বিপুলভাবে বৃদ্ধি পাওয়া বেকারত্ব, বৈষম্য ও অনিশ্চয়তা ইত্যাদির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনগণের প্রতিবাদ বেড়েছে। পুঁজিবাদের সর্বশেষ এই সংকট তার পচন দশার ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু পুঁজিবাদের পতন আপনা-আপনি ঘটে না। উপযুক্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যাভিমুখী আন্দোলন-সংগ্রামই পুঁজিবাদের অবসান নিশ্চিত করতে পারে। সোভিয়েত ইউনিয়নসহ সমাজতান্ত্রিক শিবিরের অনুপস্থিতি এবং সাধারণভাবে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সাময়িক

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2017. Beta