Register or Login
সরকারের প্রশ্রয়ে দেশ লুটেরাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে পেঁয়াজ-চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানোর দাবি
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

## বিক্ষোভ সমাবেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ সরকার ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে পেঁয়াজ-চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ ২১ নভেম্বর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোট ডাকাতির সরকারের প্রশ্রয়ে দেশ আজ লুটেরাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়ে জনগণের পকেট থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চালের দাম কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। লবণের দাম নিয়ে কারসাজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বেশি দামে লবণ কিনতে বাধ্য হয়েছে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের লোকদেখানো সক্রিয়তায় মানুষের আস্থা নেই। সরকারের প্রতি আস্থাহীন জনগণ তাই দাম বাড়ার কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। নেতৃবৃন্দ বলেন, শেয়ার বাজার লুটেরা, ব্যাংক লুটেরা, ক্যাসিনো বাণিজ্যের দুর্বৃত্তরা এ সরকারের সহযোগী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই একবার ১৯৯৬ সালে আরেকবার ২০১০ সালে শেয়ার বাজার লুণ্ঠনে সর্বস্বান্ত হায়েছিল সাধারণ মানুষ। শেয়ার বাজার লুটেরারা বর্তমান সরকারের সাংসদ, উপদেষ্টা হয়ে দাপটেই আছে। সরকারি হিসেবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি হলেও আসলে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। সরকারের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে ব্যবসার নামে একদল লুটেরা ধনিক ব্যাংকে আমনত রাখা সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ ঋণের নামে লুটে নিয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী মুক্তবাজারের নাম লুটেরা শাসকশ্রেণি দেশের মানুষকে লুট করছে। লুটপাট সীমাহীন হয়ে

উঠলে তারা নিজেরাই বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য অস্থির হয়ে উঠে। সরকারি সংস্থা টিসিবি’র মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তাদের উদ্যোগের আগেই জনগণ সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। নেতৃবৃন্দ বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুক্তবাজার অর্থনীতির নামে মুক্ত লুটপাট বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত বাজার তদারকি ব্যবস্থা ও টিসিবি’র কার্যক্রম বিস্তৃত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গত বোরো মৌসুমের মত চলমান আমন মৌসুমে ধান চাষীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা তদারকির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ পেঁয়াজ-চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানান। বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফখরুদ্দিন কবীর আতিক, ইউসিএলবি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta