Register or Login
বাম জোটের পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ভারতের সাথে জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসম চুক্তিসমূহ বাতিল কর
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

## আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত ও লুটেরাদের গ্রেফতার কর ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তি বাতিল, আবরার হত্যকাণ্ডের বিচার, ক্যাসিনো বাণিজ্য ও লুটেরাচক্র ধ্বংসের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট আজ ১৩ অক্টোবর, ২০১৯ বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশে সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচী পালন করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে আজ বিকাল ৪টায় শাহবাগ মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে বাটা সিগনাল, সায়েন্সল্যাব মোড়, নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত গিয়ে শেষ হয়। পদযাত্রায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। বক্তব্য রাখেন জোটের ঢাকা মহানগর সমন্বয়ক বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন। পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আমেনা বেগম। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে সম্পাদিত চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত হয়েছে এবং একতরফাভাবে ভারতের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে ফেনী নদীর পানি ভারতকে প্রদান করার চুক্তি স্বাক্ষর করায় দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছে। যা দেশ ও জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারের চুক্তিতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় নিরাপত্তা ও নজরদারীর জন্য ভারতকে যে ২০টি রাডার স্টেশন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তার মধ্য

দিয়ে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। যা ভারত, আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলের অংশ এবং এতে চীনের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। নেতৃবৃন্দ বিদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস আমদানি করে ভারতে রপ্তানির বিষয়টিকে অনভিপ্রেত আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আত্মঘাতি পদক্ষেপ এবং কতিপয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থে করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে আমাদের দেশের নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধের বিষয়টি যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি। তারা বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনের বিষয়টি আলোচনায় উত্থাপন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি। জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমাদের দেশের প্রস্তাবের পক্ষে ভারত ভোটদানে বিরত থেকেছে। যৌথ ঘোষণায়ও রোহিঙ্গা শব্দটির উল্লেখ পর্যন্ত নাই। তারা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানান। নেতৃবৃন্দ ভারতের নাগরিকপুঞ্জির বিষয়টি যৌথ বিবৃতিতে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের কূটনৈতিক অদক্ষতার সমালোচনা করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে সম্পাদিত চুক্তি, সমঝোতা স্বাক্ষর ও যৌথ ঘোষণা বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। তারা বলেন, জনগণের আস্থাহীন এ সরকার ভারতের সরকারের কৃপা লাভের জন্য তাদের ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। নেতৃবৃন্দ চুক্তির সমালোচনা করায় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। তারা আবরার হত্যাকারী ও তাদের মদদদাতাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ ক্যাসিনো বাণিজ্য হোতা ও তাদের গডফাদারদের গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন। নেতৃবন্দ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নৈশকালীন ভোটের নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta