Register or Login
‘নানকার বিদ্রোহ দিবসে’র ৭০তম বার্ষিকীতে সিপিবির শ্রদ্ধা শোষণের উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তির লড়াই চলবে
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ঐতিহাসিক নানকার বিদ্রোহের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম নানকার আন্দোলনের শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, নানকার, টঙ্ক, তেভাগাসহ সামন্ত সমাজের শোষণমূলক অন্যায় সব প্রথার বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে কৃষকরা গর্জে উঠেছিলেন। এসব প্রথার উচ্ছেদ হয়েছে, কিন্তু শোষণের জাল এখনও রয়ে গেছে। শোষণের উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তির লড়াই চলবে। কমিউনিস্ট পার্টি সর্বশক্তি দিয়ে শোষণমুক্তির লড়াইকে অগ্রসর করবে। আজ ১৭ আগস্ট এক বিবৃতিতে সিপিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, নানকার বিদ্রোহ এই অঞ্চলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে ধারবাহিক সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ অঞ্চলের মুক্তিসংগ্রাম এবং জমিদার প্রথা ও সামন্ত শোষণ বিরোধী আন্দোলন এক সূত্রে গাঁথা। নানকার প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন, তেভাগা, টঙ্ক ইত্যাদি আন্দোলন এই দেশের কৃষকদের সংগ্রামী ঐতিহ্যের নিদর্শন। মুক্তিসংগ্রামের ক্ষেত্র প্রস্তুতিতেও কৃষক আন্দোলন রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের পর জমিদার প্রথা উচ্ছেদ হলেও এ দেশে কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। কৃষকেরা ফসলের লাভজনক মূল্য হতে বঞ্চিত। শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া নয়া উদারনীতিবাদের শিকার হচ্ছে কৃষকেরা। নানকার বিদ্রোহের প্রেরণায় সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে কৃষক আন্দোলনকে আরও জোরদার করার জন্য কৃষকসমাজের প্রতি নেতবৃন্দ আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ আমলে নান অর্থাৎ রুটি দিয়ে কেনা গোলামকে নানকার বলা হতো। নানকার প্রথায় জমিদাররা কৃষকদের গোলাম করে রেখেছিল। এই প্রথার বিরুদ্ধে সিলেট অঞ্চলে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে কৃষকরা প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট পুলিশ, ইপিআর আর জমিদারদের পেটোয়া বাহিনী বিয়ানীবাজারের শানেশ্বর ও উলুউরি গ্রামের মধ্যবর্তী সুনাই নদীর তীরে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে শহীদ হন ব্রজনাথ দাস চটই, প্রসন্ন কুমার দাস, পবিত্র কুমার দাস, কটুমণি দাস। অমূল্য কুমার দাস গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হন এবং বন্দী অবস্থায় দুদিন পর জেলে মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে শানেশ্বর বাজারে পুলিশ ও জমিদারবাহিনীর হাতে প্রাণ হারান রজনী দাস। নানকার আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ১৮ আগস্ট ‘নানকার বিদ্রোহ দিবস’ পালন করা হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta