Register or Login
ভিডিওবার্তায় সিপিবির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ‘নিজের ভোট নিজে পাহারা’ দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকারের নীল নকশা বানচাল করুন
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
গত ২৬ ডিসেম্বর রাত ৮টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ‘২০১৪ সালের মতো এবারও খালি মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ করে নিতে না পারায় আওয়ামী লীগ সরকার এবার সন্ত্রাস, হামলা, হুমকি, গায়ের জোর, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক শক্তি সবকিছুকে ব্যবহার করে ‘ভোটের আগেই জয়লাভ করার’ আয়োজন করেছে।’ ভিডিওবার্তায় কমরেড সেলিম ‘নিজের ভোট নিজে পাহারা’ দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকারের নীল নকশা বানচাল করার আহ্বান জানান। ভিডিওবার্তায় দেওয়া কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সম্পূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হলো : “আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারের ১০ বছরের দুঃশাসনের ফলে সে আজ জনসমর্থন হারিয়েছে। কিন্তু আরো এক দফা ক্ষমতায় থাকার জন্য সে মরিয়া। ২০১৪ সালের মতো এবারও খালি মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ করে নিতে না পারায় সে এবার সন্ত্রাস, হামলা, হুমকি, গায়ের জোর, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক শক্তি সবকিছুকে ব্যবহার করে ‘ভোটের আগেই জয়লাভ করার’ আয়োজন করেছে। এ কাজে সে সফল হলে আগামী পার্লামেন্ট হয়ে উঠবে ‘ভূয়া প্রতিনিধিদের’ পার্লামেন্ট। ফলে গণতন্ত্র আরো বিপন্ন হবে এবং দেশে স্বৈরতান্ত্রিক-এনায়কত্ববাদী-ফ্যাসিবাদী বিপদ বাড়বে। এটি হতে দেয়া যায় না। কেবল জনগণের শক্তিই সরকারের এই ‘খেলা’ বন্ধ করতে পারে। ‘নিজের ভোট নিজে পাহারা’ দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে সরকারের এই নীল নকশা বানচাল করা সম্ভব হবে। আমি দেশবাসীকে আহবান জানাচ্ছি-ভোটাধিকার রক্ষায় সমবেতভাবে ও সাহসের সাথে এগিয়ে আসুন। সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। দেশ আজ লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদের কবলে। কিন্তু এ রকম হওয়ার কথা ছিল না। দেশ পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে। ‘কেউ খাবে আর কেউ খাবে না, তা হবে না’-এই নীতির ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা-এই চার নীতির আলোকে দেশ চলবে, এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদদের ও আপামর জনগণের স্বপ্ন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত জনগণ যে ধরনের বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিল, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। সেই স্বপ্নই হলো আমাদের ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’। বর্তমান সময়ের সুনির্দিষ্ট বাস্তবতায় এই ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ নবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়াই আজ জাতির সামনে মৌলিক কর্তব্য। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের অক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এমনকি, এই দুটি দল ও তাদেরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো দেশে মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক স্বপ্নতো দূরের কথা, বুর্জোয়া ধারার গণতন্ত্রও প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা ক্রমান্বয়ে আরও কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে। বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের ধারার বিপরীতে দেশে লুটপাটতন্ত্রের ধারা শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। আমাদের দেশের সম্পদ সৃষ্টি করেন প্রধানত মেহনতি কৃষক, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ মেহনতি মানুষ ও বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রেমিটেন্স পাঠানো প্রবাসীসহ সাধারণ মানুষরা। অথচ এই ‘নিরানব্বই ভাগ’ মানুষের সৃষ্ট সম্পদ থেকে তাঁদেরকেই বঞ্চিত করছে ‘এক ভাগ’ লুটোরা। ‘এক ভাগ’ লুটপাটকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘নিরানব্বই ভাগ’ জনগণের স্বার্থের দ্ব›দ্বই এখন সমাজে প্রধান দ্ব›দ্ব। এই দুটি রাজনৈতিক দল একে অপরের বিকল্প নয়-তারা আসলে একই পক্ষের, তথা সমাজের ‘এক ভাগ’ লুটেরা শোষকদের পক্ষের, দুটি প্রধান বিবাদমান গোষ্ঠী। এমতাবস্থায়, ‘এক ভাগ’ মানুষের পকেট ভরার তথাকথিত উন্নয়নের মডেল পরিত্যাগ করে, ‘নিরানব্বই ভাগ’ মানুষের অংশগ্রহণে এবং তাঁদের স্বার্থে 'সমাজতন্ত্র অভিমুখীন' উন্নয়ন ধারার ‘বিকল্প পথ’ অনুসরণ করা আজ অপরিহার্য কর্তব্য হয়ে উঠেছে। জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে বিদ্যমান ‘ব্যবস্থা বদল’ করা এবং দ্বি-দলীয় রাজনীতির বৃত্ত ছিন্ন করে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি-সমাবেশ গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই ‘পরিবর্তন’ আজ শুধু অপরিহার্যই নয়, ‘পরিবর্তন’ আজ সম্ভবও বটে। গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান, সাম্প্রতিক কিশোর বিদ্রোহ, কোটা সংস্কার আন্দোলন ইত্যাদির ভেতর দিয়ে তার প্রামাণ্য নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেই নতুনের কেতন, তারুণ্যের প্রাণতরঙ্গকে ধারণ করে কমিউনিস্ট পার্টি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কোন পথে ও কোন ব্যবস্থায় সিপিবি দেশ পরিচালনা করবে সে সম্পর্কে সিপিবির প্রস্তাবগুলো ৩০টি অনুচ্ছেদ ও ২০১টি সুনির্দিষ্ট

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta