Register or Login
‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’-এর আলোকে ‘ব্যবস্থা বদলের’ ইশতেহার ঘোষণা সিপিবির
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’-এর আলোকে ‘ব্যবস্থা বদলের’ লক্ষ্যে ৩০ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। আজ ১ ডিসেম্বর ২০১৮, সকাল সাড়ে ১১টায় এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন দেশের বাম আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ঘোষণার সময় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ’৭১-এর বিজয় আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। ’৭১ তারুণ্যের প্রতীক, নবজীবনের প্রতীক। তারুণ্যকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ’৭১-এর চেতনাকে পুনরুদ্ধার করব। তিনি বলেন, ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা ’৭২-এর সংবিধানের মূলভিত্তি পুনপ্রতিষ্ঠা করব। অর্থনীতির ব্যবস্থা মুক্তিযুদ্ধের সমাজতন্ত্র-অভিমুখীন ধারায় ফিরিয়ে আনবো। ‘বটম-আপ’ ধারায় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পথ অনুসরণ করে গ্রাম অভিমুখীন গরিববান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করব, লুটের টাকা উদ্ধার করে পুনর্বণ্টন করব। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মানুষকে মুক্ত করব। গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রক্ষমতাকে ঢেলে সাজাবো। ‘প্রজাতন্ত্রের প্রকৃত মালিক জনগণ-সর্বক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন করব’। তিনি বলেন, দ্বি-দলীয় দুঃশাসনের বৃত্তে দেশ আটকা পড়ে আছে। এর পরিবর্তন না করতে পারলে মানুষের মুক্তি নেই। দেশ বাঁচাতে এই বৃত্ত ভাঙতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক অবস্থা পাল্টে দিতে হবে। সিপিবি’র নির্বাচনী ইশতেহার এই পাল্টে দেয়ার দলিল, নব যৌবনের সৃজনশীল মুক্তি-আকাক্সক্ষার দলিল। ৩০ লক্ষ শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজ তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব পালন করবে সিপিবি। তিনি আরো বলেন, এই পরিবর্তন সম্ভব। সাম্প্রতিক সময়ে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন, যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর বিদ্রোহ, সুন্দরবন ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় তারুণ্যের আভিযাত্রা প্রমাণ করেছে সঠিক নির্দেশনা পেলে এই দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ ও জনগণের প্রধান চার বিপদ ‘লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা’কে পরাস্ত করব। গণতন্ত্রকে খর্ব করে ‘এক ভাগ’ মানুষের উন্নয়ন নয় বরং গণতন্ত্রকে নিরঙ্কুশভাবে কার্যকর করেই ‘নিরানব্বই ভাগ’ মানুষের শ্রমে ও ঘামে অর্থে অর্জিত অর্থনৈতিক সুফলকে ‘নিরানব্বই ভাগ’ মানুষের কাছে পৌঁছে দেব। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, আহসান হাবিব লাবলু, জলি তালুকদার, সদস্য সাদেকুর রহমান শামীম ডা. সাজেদুল হক রুবেল, মো. কিবরিয়া প্রমুখ। নির্বাচনী ইশতেহারের সারাংশ-- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র নির্বাচনী ইশতেহারের সারাংশ রুটি-রুজি অধিকারের জন্য শোষণ-বৈষম্যহীন ইনসাফের সমাজ গড়তে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত জনগণ যে ধরনের বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। সেই স্বপ্ন হলো ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’। এই ‘ভিশন-মুক্তিযুদ্ধ ৭১’-এর ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সময়ের সুনির্দিষ্ট বাস্তবতায় তার নবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়াই আজ জাতির সামনে মৌলিক কর্তব্য। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের অক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এমনকি এই দুটি দলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা ক্রমান্বয়ে আরও কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের ধারার বিপরীতে দেশে লুটপাটতন্ত্রের ধারা শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশে এখন মূল দ্বন্দ্ব হলো ‘এক ভাগ’ লুটপাটকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘নিরানব্বই ভাগ’ জনগণের স্বার্থের দ্বন্দ্ব। অথচ এই মৌলিক দ্বন্দ্বকে আড়াল করতে ওই ‘এক ভাগ’-এর স্বার্থরক্ষাকারী দুটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে দেশের জনগণের সামনে প্রধান দ্বন্দ্ব হিসেবে বজায় রাখা হয়েছে। এই দুটি রাজনৈতিক দল একে অপরের বিকল্প নয়-তারা আসলে একই পক্ষের, তথা সমাজের ‘এক ভাগ’ লুটেরা শোষকদের স্বার্থরক্ষাকারী পক্ষের দুটি প্রধান

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta