Register or Login
বাম জোটের সভা থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সরকার ও মালিকপক্ষ উদ্ভূত সংকট নিরসনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে গ্রেফতার-দমন-নিপীড়ন বন্ধ করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নাও
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
আজ ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভা থেকে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া ক্ষোভ নিরসনে সরকার ও মালিকপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ঘোষিত মজুরি প্রত্যাখ্যান করে গত প্রায় একসপ্তাহ ধরে চলা শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার মজুরি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিলে শ্রমিকরা ন্যায় বিচার পাবে বলে আশা করেছিল। কিন্তু গত ১৩ জানুয়ারি পুনঃনির্ধারিত মজুরি ঘোষিত হলে শ্রমিকদের আশাভঙ্গ হয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মূলত ৬, ৫, ৪, ৩ নং গ্রেডের ঘোষিত মজুরি নিয়ে সংকট। পুনঃঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামোতে এই গ্রেডসমূহে যথাক্রমে ১৫ টাকা, ২০ টাকা, ১০২ টাকা, ২৫৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং অবিবেচনাপ্রসূত। নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনের মুখে ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করায় মনে হচ্ছিল সরকার কিছুটা হলেও গার্মেন্ট শিল্পে মজুরি সংকট সমাধানের পথে হাঁটছে। কিন্তু সরকার ও মালিকপক্ষ আবারও একটি একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ায় সংকট যা ছিল তাই রয়ে গেল। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সকল গ্রেডে একই হারে মজুরি বৃদ্ধির ন্যায্য দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, গত কয়েকদিনে উত্তরা, গাজীপুর এবং সাভার-আশুলিয়া এলাকায় একাধিক কারখানার শ্রমিক নেতাকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্যাতন করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বাধা দেয়া বেআইনী। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্মেন্ট টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও উত্তরা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, উত্তরা আঞ্চলিক কমিটির নেতা ও উত্তরার দক্ষিণখানে অবস্থিত ক্যাসিওপিয়া গার্মেন্টস লিঃ কারখানা কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা, গার্মেন্ট টিইউসি নিপা ফ্যাশন ওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ কারখানা কমিটির নেতা সাজু, লিটন, মাসুদ, সুমন, আবুল এবং মো. মাসুদসহ অন্যান্য এলাকার প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মীকে ইতিপূর্বে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও গ্রেফতার আটক অব্যাহত আছে। সাদা পোশাকে বিভিন্ন বাহিনী গার্মেন্ট টিইউসির প্রধান কার্যালয় মুক্তি ভবনের ওপর নজরদারি করছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, শিল্পে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের গুম, গ্রেপ্তার, হামলা ও নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং আটক ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে পরিচালনা পরিষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোমিনুর রহমান মোমিন, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকম-লীর সদস্য আজিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম, বাসদ (মার্কসবাদী)’র ফখরুদ্দিন কবির আতিক।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta