Register or Login
বেতিয়ারা শহীদ দিবসে সিপিবি’র আলোচনা সভায় কমরেড সেলিম মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন-সাধ কমিউনিস্টদেরই বাস্তবায়ন করতে হবে
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

বেতিয়ারা শহীদ দিবস উপলক্ষে পল্টনস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম [উৎসঃ রতন দাস]
আজ ১১ নভেম্বর। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বেতিয়ারাতে পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে জীবন উৎসর্গ করেন ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ৯ জন গেরিলা যোদ্ধা। বেতিয়ারার এই যুদ্ধে যাঁরা শহীদ হন, তাঁরা হচ্ছেন- নিজাম উদ্দিন আজাদ, সিরাজুম মুনীর, মো. শহীদুল্লাহ, বশির মাস্টার, আব্দুল কাইয়ুম, জহিরুল হক দুদু, আওলাদ হোসেন, কাদের মিয়া, সফিউল্লাহ। বেতিয়ারা শহীদ দিবস উপলক্ষে আজ ১১ নভেম্বর ২০১৮ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) পল্টনস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা আয়োজন করে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সভায় আলোচনা করেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড লক্ষ্মী চক্রবর্তী, কমরেড মিহির ঘোষ, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামছুজ্জামান সেলিম, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিলানী শুভ। সভা পরিচালনা করেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন। কমরেড সেলিম বলেন, যে স্বপ্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই স্বপ্ন ও অঙ্গীকার থেকে বাংলাদেশ অনেক দূরে সরে গেছে। শাসকদের আপসকামীতা, আশ্রয়-প্রশ্রয়, ক্ষমতাকেন্দ্রিক নানা হিসাব-নিকাশের কারণে, যুদ্ধাপরাধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভিত্তির ওপর আঘাত হানছে। গণতন্ত্র আজ হুমকির সম্মুখীন। লুটেরা বুর্জোয়া ধারায় দেশ পরিচালিত হচ্ছে। দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে, মুক্তিযুদ্ধের পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ‘ভিশন মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১’ বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ-বিএনপি‘র দ্বিদলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প বলয় গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন-সাধ বাস্তবায়নের দায়িত্ব কমিউনিস্টদেরই নিতে হবে। কমরেড মো. শাহ আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই মুক্তিযুদ্ধের লিখিত ইতিহাসে বামপন্থীদের অবদানের কথা উপেক্ষিত হয়েছে। বেতিয়ারার সাহসী লড়াই ও আত্মদানকে জাতীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম একটি ভিত্তি হলো গণতন্ত্র। আজ দেশে ক্ষমতাসীন লুটেরা বুর্জোয়া গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে কেড়ে নিয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা অপকৌশলের কাছে মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা গৌণ হয়ে পড়েছে। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা বাস্তবায়নে দ্বি-দলীয় ধারার বিপরীতে বাম প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta