Register or Login
গণভবনে সংলাপে বাম গণতান্ত্রিক জোটের লিখিত বক্তব্য
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীবর্গ ও সম্মানিত নেতৃবৃন্দ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারার আটটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’কে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রীক সংকট উত্তরণে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সংলাপে উপস্থিত আপনার সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও জোটের শরীকদলের নেতৃবৃন্দকে। জনগণের দীর্ঘ দিনের দাবী ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ’৭১ এর চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ধর্মের নামে সহিংস জঙ্গিবাদী তৎপরতা মোকাবেলায় আপনার সরকারের, বিশেষভাবে আপনার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আপনার জনসভায় নজিরবিহীন গ্রেনেড হামলায় আপনার প্রাণনাশের চেষ্টা, আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ অসংখ্য মানুষের হতাহতের ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ২১ আগস্টের এই বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ আমরা সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়ে আসছি। আপনার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হচ্ছে উন্নয়ন। আমরা বিশ্বাস করি জনসম্পৃক্ত ও প্রাণ-প্রকৃতি-জীববৈচিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন তৎপরতার সাথে শক্তিশালী গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপযুক্ত সমন্বয় না হলে সেই উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত মানুষ তার সুফলও পেতে পারে না। এটা স্পষ্ট যে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকের সাথে সমান্তরালভাবে দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতির উন্নয়ন ঘঠছে না, বরং নানা দিক থেকে মারাত্মক অধঃগতি ঘটে চলেছে। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই পরিস্থিতির কেবল ক্রমাবনতি ঘটে চলেছে। আপনি বলেছিলেন, এটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন; সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রাখার নির্বাচন। কিন্তু দেশ সেভাবে এগুইনি। এই নির্বাচনের পর অবাধ, মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে মানুষ ভোটাধিকার থেকে ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত হয়ে আসছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তার সর্বশেষ নজির। মানুষের যে ভোটাধিকারের জন্য আপনার দল ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছিল আজ সেই আওয়ামী লীগ জনগণের অবাধ ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করতে পারছে না। আমাদের বিবেচনায় দশকের পর দশক জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াই এর মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের এটি একটি বড় রাজনৈতিক পরাজয়। গত ক’বছর ধরে নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর গণ-অনাস্থা কেবল বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। সরকার ও সরকারি দলের রাজনৈতিক ইচ্ছা অনুযায়ী ভূমিকা পালন করতে যেয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব ও মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত করেছে। নানা বিতর্কিত ভূমিকার কারণে নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বাস্তবে একটা গণহতাশা তৈরি হয়েছে। জনগণের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, যে দলই ক্ষমতায় থাকে নির্বাচন কমিশন তাদের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হয়। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সরকারি দল ও জোটের প্রার্থীরা যখন সারাদেশে ব্যাপক সভা, সমাবেশ, গণসংযোগ, গণমিছিল, ‘শো-ডাউন’ অব্যাহত রেখেছেন তখনও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম-খুন অব্যাহত রয়েছে। মানুষের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। সাতক্ষীরায় বাম জোটের নেতা কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় হয়রানি চরমে উঠেছে। ১ নভেম্বর সাতক্ষীরার তালায় বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পূর্ব নির্ধারিত জনসভা মঞ্চ পুলিশ কর্তৃক ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাপর বিরোধী দলের কর্মসূচির মত বাম জোটের সাধারণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও নানাভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বাম জোটের মিছিলকে যেভাবে আক্রমণ এবং শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে আহত করা হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে তা আর দেখা যায়নি। এই অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষের বড় অংশের মধ্যে এখনও পর্যন্ত গভীর উদ্বেগ ও আশংকা রয়েছে। মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা, তাদের ভোট যথাযথভাবে গণনা হবে কিনা, নির্বাচনের আগে ও পরে আবারও তারা কোনো সহিংস পরিস্থিতির মুখোমুখী হবে কিনা ইত্যাদি নানা প্রশ্ন মানুষের মধ্যে রয়েছে। অতীতে এসব নিয়ে আপনারও তিক্ত

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta