Register or Login
সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ১ অক্টোবর ২০১৮
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ শুভেচ্ছা নেবেন। দেশের বর্তমান জটিল, উত্তেজনাপূর্ণ ও বিপজ্জনক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র অবস্থান আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আমরা আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আপনারা অবগত আছেন যে, এই মাসের শেষ থেকে যেকোনো সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এ মুহূর্তে দেশে অনুপস্থিত। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরো একটি একতরফা নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে বর্তমান সরকার। যেনতেনভাবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন সরকার মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনসমর্থন না থাকায় নির্বাচনের নামে নির্লজ্জ প্রহসনের আশ্রয় নিচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের “শক্তি প্রয়োগ”, সুচতুর কারসাজি, ধুরন্ধর ছল-চাতুরি ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার মত্ত প্রয়াস চালাচ্ছে। এ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনসমূহে ক্ষমতাসীনদের জোর জবরদস্তি জয়লাভে নির্বাচন কমিশনের সহায়তা গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর গণঅনাস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের আচরণে আবারও প্রমাণিত হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো সুযোগ নাই। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং রাজনৈতিক দল ও সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুসহ টাকার খেলা ও পেশিশক্তিনির্ভর বিদ্যমান গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল। সিপিবিসহ বাম গণতান্ত্রিক জোটের তিনটি দল নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছিল। দলসমূহের প্রস্তাবে প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয় ৩ লক্ষ টাকা নির্ধারণ, নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশিশক্তি, সাম্প্রদায়িক প্রচারণা ও প্রশাসনিক কারসাজি বন্ধ, ইভিএম চালু করার তৎপরতা বন্ধ, দল ও প্রার্থীদের মধ্যে সমান সুযোগ তৈরি, ‘না’ ভোটের বিধান চালু, অনলাইনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ, ভোটারের ইচ্ছায় জনপ্রতিনিধি প্রত্যাহার এবং সর্বোপরি সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুসহ গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ২০১৮ বাম গণতান্ত্রিক জোট “ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রস্তাবনা” প্রদান করে যাতে ৫৪টি সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কিন্তু দুঃখের কথা নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আরপিও সংশোধন করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং সরকারি দল ব্যতীত অন্যান্য দলসমূহ যে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণের বিরোধিতা করেছিল সেই ইভিএম চালুর জন্য আরপিও সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে। তিন হাজার আট শত কোটি টাকার ইভিএম ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির পরিবর্তে সরকারের ইচ্ছানুসারে একতরফা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরিতে নিয়োজিত রয়েছে। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় আসা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার খর্বিত হয়েছে ন্যাক্কারজনকভাবে। ‘১০ টাকা কেজি’ চাল দেয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়নের নামে শাসকদলের সীমাহীন লুটপাট, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত দেশ। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ রুদ্ধ। গুম, খুন, জেল, জুলুম, দমন-পীড়নের কর্তৃত্ববাদী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে পিষ্ট দেশ। খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বীভৎস পর্যায়ে পৌঁছেছে। সড়কে মুত্যুর মিছিল চলছে। বেকারত্বে যন্ত্রণায় নিষ্পেষিত হচ্ছে কোটি কোটি যুবক। দলীয়করণের কাছে পরাজিত হচ্ছে মেধা। মালিকদের খুশি করার জন্য গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি উপেক্ষিত।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta