Register or Login
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৪৩তম বার্ষিকীর আলোচনা সভায় সেলিম লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদের বিপদ থেকে দেশকে বাঁচাতে ‘ভিশন- মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ বাস্তবায়ন করতে হবে
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদের বিপদে দেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে উদ্যত হয়েছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য দ্বি-দলীয় রাজনীতির বৃত্ত থেকে দেশকে উদ্ধার করে ‘বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প’ রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসতে হবে। ‘ভিশন- মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ বাস্তবায়ন করতে হবে। আজ ১৪ আগস্ট মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল। সভা পরিচালনা করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর নীতি-আদর্শ থেকে সরে যাওয়ার অর্থ তাঁকে দ্বিতীয়বার হত্যা করা। বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারের আচরণ দাঁড়িয়েছে ‘তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলে থাকি’। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচার হলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র উদঘাটন ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার হয়নি। এ বিচার ব্যতিত ইতিহাসের কলঙ্কমুক্তি ঘটবে না। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে অনেক ভুল-ত্রুটি ছিল। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘কোনো বাঙালি আমাকে গুলি করবে না। গুলি করতে গেলে তার হাত কেঁপে যাবে। তিনি উদার জাতীয়তাবাদী ছিলেন। ভাবতেন বাঙালিরা হলো ভাই-ভাই। কিন্তু বাঙালিদের মধ্যেও যে শোষক ও শোষিত ভাগ আছে, শ্রেণি দ্বন্দ্ব আছে এবং শত্রু যে কত নির্মম হতে পারে-

সে বিষয়ে তার উপলব্ধির ঘাটতি ছিল। শত্রুরা সেসবের সুযোগ নিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল। প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শক্তি পটপরিবর্তন-ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় অগ্রগতির পথকে উল্টিয়ে দিয়েছিল। দেশ এখনো সেই উল্টো পথে চলছে। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন। সংবিধানে চার মূলনীতি ফিরে আসলেও সামরিক শাসক কর্তৃক সংবিধানে স্থাপিত ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ এবং ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বহাল তবিয়তে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সূচীত পুঁজিবাদী মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারাতেই দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। তারা সমাজতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতাকে বর্জন করে সাম্রাজ্যবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে তোষণ করছে। তিনি বলেন, দেশে ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক চলছে। কেউ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতে বুঝেন ৭১ এর নয় মাসের যুদ্ধ। কেউ বুঝেন পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরের সংগ্রাম। তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন এর ইতিহাস রচনাকালে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম ও স্বাধীনতাকামীদের বাদ দেয়া যাবে না। আমাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলন হচ্ছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও ৭১ এর নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের সমষ্টি। তিনি বলেন, জনগণ ইতিহাসের স্রষ্টা। তবে জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে ইতিহাসে কাম্য ভুমিকা পালন করতে পারে না। ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টির সচেতন উদ্যোগ জনগণকে ইতিহাসের কাম্য ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশে পাকিস্তানি ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তিনি বলেন, কেবল বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta