Register or Login
ডিজিটাল আইন ২০১৮, কালো আইনের পরিবর্তে কুচকুচে কালো আইন প্রবর্তন করা হচ্ছে সংবাদ সম্মেলনে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ডিজিটাল আইন ২০১৮ কে মত প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে এ আইন বাতিল দাবি করেছেন। মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সিপিবি- বাসদ- গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খালেকুজ্জামান, সাইফুল হক, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, আব্দুল আজিজ, ফিরোজ আহমেদ, হামিদুল হক। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোশরেফা মিশু। সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশের মানুষ কালো আইন আইসিটি অ্যাক্ট-৫৭ ধারা বাতিল চেয়েছিলেন কিন্তু তাদের উপর কুচকুচে কালো আইন চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এই আইন সংবিধান, তথ্য অধিকার আইন সহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার ধ্বংস করবে। অবিলম্বে এই আইন বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইন জনগণের গণতান্ত্রিক আকাংখার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। অবিলম্বে এই আইন বাতিল করুন নতুবা জনগণ আপনাদেরকে বাতিল করে দেবে। খালেকুজ্জামান বলেন, অসংখ্য কালো আইন দ্বারা গণতান্ত্রিক অধিকার ইতিমধ্যেই সংকুচিত করা হয়েছে, এখন ডিজিটাল আইনের নামে তাকে শৃংখলিত করা হচ্ছে। এই আইন মন্ত্রী এমপি, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ক্ষমতাসীনদের লুটপাটকে সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। সাইফুল হক বলেন, সমালোচনা করার সুযোগ কেড়ে নেয়া এবং ক্ষমতাসীনদের লুটপাটকে জবাবদিহীতার উর্ধে রাখার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। শুভ্রাংশু চক্রবর্তী এই আইনকে ফ্যাসীবাদ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রণীত আইন বলে উল্লেখ করেন। নেতৃবৃন্দ এই অগণতান্ত্রিক কালো আইন বাতিলের লক্ষ্যে সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক সহ সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলন থেকে ডিজিটাল আইন ২০১৮ বাতিল করার দাবিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য: ডিজিটাল আইন ২০১৮ প্রসঙ্গে সিপিবি-বাসদ-গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সংবাদ সম্মেলন প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ সিপিবি-বাসদ-গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। ভাষার মাসের প্রথম দিনে দেশের জনগণের মুক্তবুদ্ধি চর্চা, মতপ্রকাশের যুক্তিসঙ্গত সমালোচনারঅধিকার কেড়ে নেয়ার এক ভয়ংকর আইন প্রসঙ্গে আমাদের মাতামত আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য আমরা এই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছি। ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রী পরিষদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮এর খসড়া চূূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি সংসদে পাস হলে আইসিটি অ্যাক্টের ৫৪,৫৫, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বিলুপ্ত হবে। মন্ত্রী পরিষদ সচিব সাংবাদিকদের জানান, ‘সাইবার ক্রাইমের আধিক্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনা ঘটেছে ফলে এ আইন করার প্রয়োজন হয়েছে। আগে সাইবার ক্রাইমের জন্য কোন আইন ছিল না। এখন এই জাতীয় সব অপরাধের বিচার এই আইনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘আইনে ডিজিটালের সংজ্ঞা, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম গঠন, প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। নতুন আইনের ১৭ থেকে ৩৮ ধারায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।’ এই সব কথা আপাত অর্থে নিরীহ মনে হলেও অতীতের স্মৃতি এবং সরকারের বর্তমান ভূমিকার সাথে আইনটিকে দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার কোন কারণ নেই। রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী কর্তৃক সমালোচনাকারিদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা, সিঁধেল চোর, গাধার সাথে তুলনা করা তো আছেই মামলার মাধ্যমে হয়রানি বর্তমানে এক ভয়াবহ মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে সাথিয়া, রামু, নাসির নগর, রংপুরে সাম্প্রদায়িক হামলা নির্যাতনের সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দায়ীদের না ধরে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি, আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারার মাধ্যমে হয়রানি, আইসিটি অ্যাক্টের অধীনে ৭৪০টি মামলার ৬০ শতাংশেরও বেশি ৫৭ ধারায় করার ফলে সকল মহল থেকেই এই ধারা বাতিলের পক্ষে প্রবল জনমত গড়ে উঠেছিল। কিন্তু যে খসড়া আইন অনুমোদিত হয়েছে তা গণতান্ত্রিক অধিকারকে আরও সংকুচিত করার ক্ষেত্রে শাসকদের হাতে শক্তিশালী অস্ত্র তুলে দিল। উন্নয়নের প্রবল হট্টগোলে গণতন্ত্র যখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম তখন উন্নয়ন আর দুর্নীতির মেল বন্ধনকে নিরাপদ করতে এই আইন ব্যবহৃত হবে। আইনের শাসনের নামে শাসন করার আইন প্রনয়ণ, আইনের গতি বাড়ানো কমানো, আইনকে শাসকদের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালনা করার দৃষ্টান্ত জনগণ দেখছে। এবারের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ শাসকদের সাথে দুর্নীতিবাজদেরও নিরাপত্তা দেবে। আইনের ১৭ ধারায়Ñডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ যদি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2018. Beta