Register or Login
বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস হরতাল সফল করার জন্য আহূত সংবাদ সম্মেলন
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
২৫ নভেম্বর ২০১৭ সকাল ১১ টা মুক্তিভবন, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ সাংবাদিক বন্ধুগণ জনজীবনের একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে এবং আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করতে আমরা আজকের এই সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছি। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদেরকে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার পক্ষথেকে জানাই সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বন্ধুগণ, ভোক্তা সংগঠন ক্যাব, বিভিন্ন বামপন্থি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, জ্বালানী বিশেষজ্ঞসহ সকল মহলের মতামত ও সমস্ত তথ্য, যুক্তি উপেক্ষা করে সরকার একগোয়েমি করে বিদ্যুতের দাম আবরো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমান সরকার তার মেয়াদকালে এই নিয়ে আট বার বিদ্যুতের দাম বাড়াল। সরকারের ভুল নীতি, দুর্নীতি, অপচয়, লুটপাট, ব্যাক্তিমালিকানাধীন বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের মুনাফার জন্য দফায় দফায় বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। গত কয়েক বছরে গণশুনানিতে এ বিষয়ে বহুবার যুক্তি উত্থাপন করা হয়েছে কিন্তু গণশুনানির উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের ইচ্ছার বাস্তবায়নের লোক দেখানো আইনি পদক্ষেপ। এবারও আমরা ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিভিন্ন বিদ্যুৎ কোম্পানির দেয়া হিসেব এবং প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিলাম বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহতভাবে বলে আসা সরকারের বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করেছি সরকারের হিসেব থেকেই। সরকার বলে আসছেন, বিদ্যুতে সরকার ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির ভার আর বহন করা সম্ভব নয়। আমাদের সাধারণ বুদ্ধি বলে, ভর্তুকি যদি দিয়েই থাকেন তাহলে তা তো বাজেটে সমন্বয় হয়ে যাওয়ার কথা। তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকা ঘাটতির প্রশ্ন উঠতে পারে না। আবার অন্যদিকে সরকার হিসেব দেখাচ্ছে যে, ভর্তুকির টাকার সুদ বাবদ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২১ পয়সা নাকি ব্যয় হয়। যা বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাবদ দেখানো হয়। অথচ একবার বলছেন ভর্তুকি আর একবার সুদের হিসাব দিচ্ছেন এর কারণ কি? সুদ নিলে সেটা তো আর ভর্তুকি থাকে না, তা তখন ঋণ হয়ে যায়। এর কোনো সদুত্তর গণশুনানিতে তাঁরা দিতে পারেন নাই। এর বাইরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল বাবদ ২৬ পয়সা কেটে রাখা হয়, এর সুফল তো জনগণ পায় না। আমরা বলেছিলাম, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ফলে তরল জ্বালানি দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব। সরকার কথায় কথায় বলে, আমরা দাম বাড়াই না, মুল্য সমন্বয় করি মাত্র। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশ্ব বাজারের তেলের দামের সাথে সমন্বয় করতে দেখা গেল না। অথচ জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা হিসেব করে দেখিয়েছেন জ্বালানি তেলের দাম কমার সাথে সমন্বয় করলে প্রতি ইউনিটে দাম কমানো যাবে ১৪ পয়সা। গণশুনানীতে এবং বিভিন্ন আলোচনা সভা, সেমিনারে পিডিবির চেয়ারম্যানও এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন। এমনকি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীও বলেছিলেন তেলের দাম সমন্বয় করলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না, যা পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া পাইকারি বিদ্যুতের দামের পার্থক্য দূর করলে অর্থাৎ সরকার দাম নির্ধারণ করেছে ৪.৯০ টাকা কিন্তু হিসাব দেখানো হয়েছে ৪.৮৫ টাকা হিসেবে। প্রতি ইউনিটে ৫ পয়সা মানে বছরে ২৭০ কোটি টাকা কোথায় যায়? এই শেষ নয়, ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রিতে উদ্বৃত্ত ৮ পয়সা, পাওয়ার ফ্যাক্টর জরিমানা বাবদ সরকারের আদায় ৪ পয়সা যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ৭৮ পয়সা । অর্থাৎ ৭৮ পয়সা প্রতি ইউনিটে সাশ্রয় করা যায়। তাহলে সরকার যে ৩৫ পয়সা দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে তার কোনো প্রয়োজন নেই বরং তার চাইতেও প্রতি ইউনিটে ৪৩ পয়সা বা বছরে ২৩১৮ কোটি টাকা বেশি সাশ্রয় করা সম্ভব এক পয়সাও দাম না বাড়িয়ে। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নয় জনগণের স্বার্থের কথা ভাবলে বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ানো নয় কমানো সম্ভব। বিশেষ করে বিদ্যুতের কথা আমরা যুক্তি ও তথ্য উপাত্ত দিয়ে বলেছি বারবার। রেন্টাল এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরকার গ্যাস সরবরাহ করে এবং তাদের কাছ থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনে। রেন্টাল, কুইক রেন্টালে গ্যাস সরবরাহ না করে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ালে প্রায় এক হাজার ৩০১ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। জ্বালানি দামের সমন্বয় করলে ফার্নেস ওয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুই হাজার ১১০ কোটি টাকা এবং ডিজেল ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। ডিজেলভিত্তিক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রেখে কম খরচের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখলে উৎপাদনে ব্যয় সাশ্রয় হতো ৭৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমরা বলেছি যে, মেঘনা ঘাট

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2017. Beta