Register or Login
অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষের মহাসমাবেশে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রুশ বিপ্লবের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র কায়েম করতে হবে
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বানে আজকের মহাসমাবেশ ও লাল পতাকার মিছিলে উপরোক্ত মন্তব্য করেন জাতীয় কমিটির অন্যতম আহ্বায়ক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিকের সভাপতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশল শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ (মার্কসবাদী)’র আহ্বায়ক মবিনুল হায়দার চৌধুরী, বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, জাতীয় গণফ্রন্টের আহ্বায়ক টিপু বিশ্বাস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণমুক্তি ইউনিয়নের নাসিরউদ্দিন নাসু, গরিব মুক্তি আন্দোলনের শামসুজ্জামান মিলন, বাসদ (মাহবুব)’র শওকত হোসেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক সিপিবি‘র প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ১২টি রাজনৈতিক দল, ১৬টি শ্রমিক সংগঠন, ১১টি কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগঠন, ৩২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন, ৭টি ছাত্র সংগঠন, ৭টি নারী সংগঠন, একাধিক যুব ও শিশু-কিশোর সংগঠন অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত। সভাপতির ভাষণে ভাষা সংগ্রামী

আহমদ রফিক বাংলাদেশের বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের গরিব-মেহনতি মানুষের অবস্থার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় কমিটির অন্যতম আহ্বায়ক ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের এই উদ্যাপনের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের সমাজতন্ত্রীরা একত্র হয়েছেন। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনরত শ্রেণী ও পেশার সংগঠনগুলোও ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচী পালন করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে নারী, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেতমজুর ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। উদ্যাপন রাজধানীতে যেমন তেমনি দেশের সর্বত্রই ঘটেছে। সমাজতন্ত্রের পক্ষে একটি নবজাগরণের আভাস পাওয়া গেছে। আমরা আশা করবো সমাজতন্ত্রীদের এই নৈকট্য স্থায়ী ঐক্যে পরিণত হবে এবং পুঁজিবাদ-বিরোধী সংগ্রাম নতুন বেগ ও গভীরতা পাবে। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমরা যে লড়াই করছি তা একটি রাজনৈতিক লড়াই। অক্টোবর বিপ্লবও একটি রাজনৈতিক লড়াই। সেই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিপ্লব সম্পন্ন হয়েছিল তা ছিল একটি সামাজিক বিপ্লব। বিপ্লব হলো পুরানো রাষ্ট্রকে ভেঙ্গে চুর্ণবিচূর্ন করা। বিপ্লবের পর লেনিন তাই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরনের ডাক দিয়েছিলেন। সমস্ত ক্ষমতা ছিল সোভিয়েতের হাতে। সোভিয়েত ছিল জনগণের হাতে। যে সময়ে আমরা অক্টোবর বিপ্লব পালন করছি, সে সময়ে পুঁজিবাদ ফ্যাসিবাদের রূপ নিয়েছে। এই ফ্যাসিবাদকে উচ্ছেদ করতে হলে রাজনৈতিক লড়াই প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদীরা

ক্ষমতায় এসেছে। তারা ক্ষমতাশীল হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা যে রাষ্ট প্রতিষ্ঠা করলাম সে রাষ্ট্রের চরিত্র বদলায়নি। বড় রাষ্ট ভেঙ্গে ছোট রাষ্ট হয়েছে। ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান হয়েছে, পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ হয়েছে। মুক্তিুদ্ধে দুই লক্ষ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পরবর্র্তীতে রাষ্ট্র তাদের বীরাঙ্গনা উপাধি দিয়েছে। সেই উপাধি পরবর্তীতে তাদের জন্য অসম্মানের প্রতীক হয়েছে। এ ছিল ভুল দৃষ্টিভঙ্গি। এই বীরাঙ্গনা উপাধি প্রমাণ করে তাদের প্রতি রাষ্টের দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি সমাজে নারীর অবস্থান বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমরা আজকে যে সমাজে বাস করছি সেখানে নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, শিশুরা ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন ছিল না। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা। ফলে এখানে যে নারী সর্বোচ্চ পদ লাভ করে সেও পিতৃতন্ত্রের শিকার হয়। সমাজতন্ত্র এই পিতৃতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছিল। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য। আমাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। শোষণ বন্ধ হয়নি। অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষে আমরা শোষণমুক্তির সংগ্রাম অব্যাহত রাখব, শোষণ মুক্তির লড়াই চলবে। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক নিয়মে পুঁজিবাদের বিনাশ হবে। পুঁজিবাদের বিনাশ মানে ব্যক্তি মালিকানার সমাপ্তি। আগামীর ভবিষ্যৎ হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানার পৃথিবীর পরিবর্তে সামাজিক মালিকানার মানবিক বিশ্ব গড়ার। তেল-গ্যাস জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2017. Beta