Register or Login
গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়, জনজীবনের সংকট সমাধান ও বিকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে বামপন্থীদের আশু দাবিসমূহ ঘোষণা
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়, দুর্নীতি-লুটপাট-দখলদারিত্ব বন্ধ, জনজীবনের সংকট সমাধান ও মহাজোট-জোট-এর বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তুলতে প্রস্তাব ও আশু দাবিসমূহ তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। আজ ১ আগস্ট ঢাকার কমরেড মণি সিংহ সড়কস্থ মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বামপন্থীদের আশু দাবিসমূহ ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। প্রস্তাব ও আশু দাবি উত্থাপন করেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সাত্তার, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা বহ্নিশিখা জামালী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জুলহাসনাইন বাবু প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্বাধীনতা উত্তর শাসক-শোষকশ্রেণি ও তাদের দলসমূহের প্রতারণা, নির্মম শোষণ, লুণ্ঠন, দমন-পীড়ন আর হত্যা-খুনের রাজনীতির কারণে জনগণের মুক্তির স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা তারা বিপর্যস্ত করেছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র মতো দলগুলোর দুঃশাসন আর বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসনের যাতাকলে অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ আজ দেশি-বিদেশি লুটেরা, সন্ত্রাসী, দাগি অপরাধী ও মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে; মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ’৭১ এর গণহত্যাকারী ঘাতক শক্তিসহ নানা সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী অপশক্তি। আরও বলা হয়, মহাজোট সরকারের দুর্নীতি আর দুঃশাসনে মানুষ আজ দিশেহারা। সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ এখনও রুদ্ধ, ভোটাধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। নিপীড়ন, হয়রানিমূলক মামলা, অপহরণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আইনের শাসনের ছিটেফোটাও রাখা হচ্ছে না। বিরোধী দল ও মতকে দমন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তকমা আর উন্নয়নের কথা বলে বস্তুত সরকার তাদের যাবতীয় অপকর্মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছে। বাতিল করার সমস্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার সংবিধানের ২য়, ৮ম সংশোধনী, প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রীক অগণতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর ভিত্তি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ সকল অগণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক ও ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাবিরোধী ধারা ও সংশোধনীসমূহ বহাল রেখেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ও চরিত্র বিপজ্জনকভাবে প্রসারিত করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। নির্বাচন পুরোপুরি টাকার খেলায় পর্যবসিত হয়েছে। দুর্নীতিবাজ, লুটেরা গোষ্ঠির কালো টাকা, সন্ত্রাস, পেশীশক্তি, সাম্প্রদায়িকতা, আঞ্চলিকতা, আমলাতান্ত্রিক খবরদারির কারণে বিদ্যমান ব্যবস্থায় সৎ, সংগ্রামী, নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জয়লাভ প্রায় অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং নির্বাচনের অবাধ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো অবকাশ নেই। সংবাদ সম্মেলনে, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, দলীয়করণ-দূর্নীতি-লুটপাট ও দখলদারিত্ব রোধ, সাম্প্রদায়িক জঙ্গী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা বন্ধ, শ্রেণি-পেশাসহ জনজীবনের জরুরি দাবিসমূহ, জাতীয় সম্পদের মালিকানা সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত ও জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ৫টি শিরোনামে আশু দাবি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, লুটেরা পুঁজিপতি শ্রেণির নিষ্ঠুর শোষণমূলক ব্যবস্থা, বিদ্যমান স্বৈরতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদি শাসনের অবসান এবং অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ জনগণের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2017. Beta