Register or Login
ট্যানারি কারখানাসমূহ স্থানান্তরকালে শ্রমিকদের চাকুরীর ধারাবাহিকতা ও অন্যান্য দাবিসমূহ মেনে নিন -সিপিবি
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
পরিবেশ দূষণ কমাতে হাজারিবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের সময়ে শিল্পে কর্মরত ৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার দিকে নজর রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ আজ এক বিবৃতি প্রদান করেন। ট্যানারি শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শতভাগ দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারকারী বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ট্যানারি শিল্প ৬০ বছর আগে নারায়নগঞ্জ থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকার হাজারীবাগে স্থানান্তর করা হয়। পানি ও বর্জ্য শোধনের উন্নত ব্যবস্থা ব্যবহার না করে বুড়িগঙ্গা নদীতে বর্জ্য নিষ্কাশন করে শিল্প মালিকরা। ফলশ্রুতিতে নদী দূষণসহ অত্র এলাকার মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। ঢাকা শহরের প্রাণ বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, পরিবেশ রক্ষায় হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরের শিল্প নগরীতে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু একটি শিল্প নগরীর জন্য যে অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার ছিল বিসিক কর্তৃপক্ষ ও শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহের মালিকদের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর গত ১৪ বছরেও তা গড়ে উঠেনি। হেমায়েতপুর চামড়া শিল্প নগরীতে এখনো পর্যাপ্ত পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের সুব্যবস্থা হয়নি। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার পূর্ণভাবে চালু হয়নি। শ্রমিকদের বাসস্থান, হাসপাতাল, তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল-কলেজ গড়ে তোলা হয়নি। ফলে সরকার ও আদালতের নির্দেশে বন্ধ কারখানাগুলো কবে হেমায়েতপুরে চালু হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। ফলে ট্যানারি শিল্প মারাত্মক এক বিপর্যয়ের মুখে পতিত হবে। যা দেশের রপ্তানী আয় কমিয়ে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। নেতৃবৃন্দ সরকার, বিসিক কর্তৃপক্ষ ও শিল্পের মালিকদের শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ স্থানান্তর করে দ্রুত পুনঃস্থাপন করার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের জন্য শিল্প মালিকরা হাজারীবাগের প্লটের তুলনায় ৫/১০গুণ বড় প্লট পেয়েছেন হেমায়েতপুরে। মহামান্য আদালত মালিকদের ৩০ কোটি টাকা জরিমানা মওকুফ করে দিয়েছে। সরকার নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু শিল্পের শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। শিল্প নগরীতে তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। তাদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা হয়নি। ফলে শ্রমিকদের হেমায়েতপুরে গিয়ে কাজে যোগদান করাটা কঠিন হয়ে পড়বে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্রমিকদের বাসস্থান, হাসপাতাল, স্কুল, খেলার মাঠ, বাজারসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাদি তৈরির আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে কারখানা বন্ধ থাকার অজুহাতে মালিক কর্তৃক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কারখানা পুনঃস্থাপনে বিলম্বের কারণে কোন শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না। শ্রমিকদের চাকুরীর ধারাবাহিকতার নিশ্চিত করতে হবে। পুনঃস্থাপন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করতে হবে। যতদিন শ্রমিকদের শিল্প নগরীতে আবাসনের ব্যবস্থা না করা হয় ততদিন শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা মালিকদের করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2017. Beta