Register or Login
নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্বাচন ব্যবস্থা আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সমীপে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কতিপয় প্রস্তাবনা
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
(৫ জানুয়ারি ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৬টা) ভূমিকা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগের বিষয়টি তাই সামনে চলে এসেছে। তার প্রেক্ষিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সাধুবাদ জানাই এবং তার উদ্যোগের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি। আমরা আশা করব এই আলোচনার মধ্য দিয়ে শুধু এবারের জন্য নয়, স্থায়ীভাবে সবসময়ের জন্য, যোগ্য নিরপেক্ষ উপযুক্ত ও অবিতর্কিত নির্বাচন কমিশন গঠনের একটি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব করে তুলবে। আমরা মনে করি যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার ওপর নির্ভরশীল না করে তুলে, গোটা প্রক্রিয়াটিকে একটি আইনগত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা উচিৎ। এ জন্য ‘সিলেক্ট কমিটি’ গঠনের পদ্ধতি নির্ধারণসহ সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ১ নং ধারার নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা উচিৎ। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য অত্যাবশ্যক শর্ত হলো একটি স্বাধীন, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। কিন্তু একথাটিও সত্য যে, ‘প্রয়োজন’ হলেও সেটুকুই তার জন্য ‘যথেষ্ট’ নয়। তার জন্য সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হলো- গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ঢেলে সাজানো। প্রয়োজন, ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। প্রয়োজন, নির্বাচনকে অর্থ, পেশিশক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িক প্রচারণা ইত্যাদি থেকে মুক্ত করা। এসব ক্ষেত্রে আমূল সংস্কার সাধন করা ব্যাতীত একটি ‘সর্বৎকৃষ্ট’ নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ‘অবাধ-নিরপেক্ষ’ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার যেন কোনো প্রকারে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার না করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার সাংবিধানিক গ্যারান্টি থাকাও অপরিহার্য্য। নির্বাচন যেভাবে ও যেকারণে তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে তাতে করে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা আজ একান্তভাবে প্রয়োজন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সেজন্য একটি যথোপযুক্ত নির্বাচনী ব্যবস্থা ও তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা ‘রাজনৈতিক-গণতন্ত্রে’র একটি আবশ্যিক শর্ত। নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রত্যেক নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাসহ এবং অবাধ-ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা-এগুলো হলো একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ নির্বাচনের প্রাথমিক ও মৌলিক উপাদান। এসবের নিশ্চয়তা প্রদান করাই হওয়া উচিৎ নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব। কিন্তু আমাদের দেশের জনগণকে এই ন্যূনতম সুযোগটি থেকেও বার বার বঞ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে শাসক শ্রেণীর ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’র দর্শনের ভিত্তিতে পরিচালিত লুটপাটের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অনুষঙ্গ হিসেবে নির্বাচন বহুলাংশে এক কুৎসিত ‘টাকার খেলা’, ‘পেশি শক্তির প্রতিযোগিতা’, ‘প্রশাসনিক কারসাজি’ ও ‘সাম্প্রদায়িক ধূম্রজাল ও বিভাজন সৃষ্টির ওস্তাদি’তে পরিণত হয়েছে। গরিব শ্রমজীবী মানুষসহ বিত্তহীন, স্বল্পবিত্ত সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগকে কার্যত অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। জনমত নয়, ‘অর্থ-অস্ত্র-ম্যানিপুলেশন-সাম্প্রদায়িকতা’-ই নির্বাচনের ফলাফলের ক্ষেত্রে নির্ধারক হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের নামে কোটিপতিদের প্রতিযোগিতার এই খেলায় ‘জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা ও মতামত প্রতিফলনে’র কোনো সুযোগ আর থাকছে না। নির্বাচন আজ নানাভাবে বস্তুত এক ধরনের প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে নির্বাচনকে মুক্ত করা ও মুক্ত রাখাই হওয়া উচিৎ নির্বাচন কমিশনের কর্তব্য। এমতাবস্থায় অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে (১) একটি স্বাধীন, দক্ষ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া (২) নির্বাচনকালীন সরকার এবং (৩) নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোÑএই তিনটি বিষয়ের সবগুলো সম্পর্কে আমরা আমাদের নিম্নোক্ত কতিপয় প্রস্তাবনা মহামান্য রাষ্ট্রপতি সমীপে উত্থাপন করা প্রয়োজন মনে করছি। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে সুপারিশসমূহ ক. নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পর্যাপ্ত ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মক্ষম সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধানের

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2019. Beta