Register or Login
সিপিবি-বাসদ ও ঐক্য প্রক্রিয়ার যুগপৎ কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে
Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রাজধানী থেকে সারা দেশ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পেট্রল বোমার আগুনে পুড়ে, সংঘর্ষে, রেলের নাশকতায়, পুলিশের গুলিতে, ক্রসফায়ারে নারী-শিশুসহ গত দুই সপ্তাহে ২৬ জন মানুষ মারা গিয়েছে। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে যাচ্ছে আরও অনেকে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। চলমান এই রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিক উপায়ে মোকাবেলা না করে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আজ ১৯ জানুয়ারি, ২০১৫ সোমবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিপিবি-বাসদ ঐক্য এবং নাগরিক ঐক্য প্রক্রিয়ার যুগপৎ মানববন্ধন কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ এই কথা বলেন। জনগণের গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিন্ত করা ও আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ হত্যা বন্ধের দাবিতে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, জেএসডির সভাপতি আ. স. ম. আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো. মনসুর আহমদ, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা জনাব এস এম আকরাম। মানববন্ধন পরিচালনা করেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহম্মেদ। ড. কামাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, সংবিধান রক্ষার নামে দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন করে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা সংবিধান লংঘনের শামিল। তিনি বলেন, দেশের শতভাগ মানুষ শান্তি চায়। সরকারকে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তার জন্য জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য যদি দশটি বালিভর্তি ট্রাক পাঠানো প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য পঞ্চাশটি বালিভর্তি ট্রাক পাঠানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানাচ্ছে। বিএনপির অফিসে তালা না দিয়ে যুদ্ধাপরাধী সন্ত্রাসী জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। সেলিম আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুটি দলকে স্বৈরাচার ও রাজাকারের সঙ্গ ত্যাগ করে অবিলম্বে রাজনৈতিক সংকট মীমাংসা করে দেশবাসীকে অনিশ্চয়তা ও সংকটের হাত থেকে বাঁচানোর আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বাসদ সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, তাদের কাছে দেশের মানুষের স্বার্থ ও গণতন্ত্র কোনোটাই নিরাপদ নয়। এদের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার জন্য বাম-গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল উদারনৈতিক রাজনৈতিক শক্তি ও নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একদিকে পেট্রল বোমায় পুড়ে মরছে মানুষ, অন্যদিকে সন্ত্রাস দমনের নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষকে যেভাবে ঘরছাড়া করা হচ্ছে তা কোনোটাই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি পুলিশ-র্যা ব ও বিজিবিকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, কোনো দলের নয়। বে-আইনিভাবে মানুষ হত্যা করার অধিকার কারো নেই। তিনি সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর অন্যথা হলে মানুষ আপনার সরকারকেও একটাকা দু’টাকার খুচরা নোটের মতো বাতিল করে দেবে। মানববন্ধনে জেএসডি নেতা আ.স.ম. আব্দুর রব বলেন, ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন ও একতরফা নির্বাচন থেকেই রাজনৈতিক সংকটের সূচনা। সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র সবকিছুকেই ব্যবসায় পরিণত করেছে। দেশের মানুষ যেমন আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, ঠিক তেমনিভাবে তারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও। সুলতান মো. মনসুর আহমদ বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী চেতনায় আবার জাতীয় জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল বাম-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বার্তা প্রেরক চন্দন সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় দপ্তর বিভাগ, সিপিবি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..

© Copyright Communist Party of Bangladesh 2020. Beta